Feeds:
পোস্ট
মন্তব্য

পূজো আসছে। হ্যা, বাঙালীর সেরা উৎসব। এটা সত্যই যে কোনো বাঙলীর কাছে খুব বড় বাপ্যার।  যখন গত সপ্তাহে vashi তে ইনঅরবিট মল এ ঘুরছিলাম, মনে হচ্ছিল যেন পুরো বাঙলী কমিউনিটি মল এ ভীড় জমিয়ে ছিল।  বঙ্গভূমি টাকে মিস করছি।

যাই হোক, পুজোর কথা যখন উঠল, তখন মনে পরে যাচ্ছে, পুজোর সাথে জুড়ে থাকা কিছু স্মৃতি।

পুজো মানে নতুন জামাকাপড়, পুজো মানে খেলনা পিস্তল, পুজো মানে আনন্দমেলা, পুজো মানে বিকেল বেলা ঠাকুর দেখতে যাওয়া আর বাড়ী ফিরে টিভি র সামনে বসে পড়া পুজো পরিক্রমা দেখা। এটা ছিল সেই বয়সে যখন জীবন মানে ছিল পুরোপুরি মুক্তি। না কোনো ভাবনা আর না কোনো চিন্তা। আসলে তখন ত কোনো দুংখ ছিল না। তবে একটা জিনিস দেখে খারাপ লাগত যখন দেখতাম যে অনেকে পুজো তে ও নতুন জামা পড়তে পারত না। তখন কারন হয়ত বুঝতাম না, কিন্তু খুব ভাবতাম।

গ্রামের বাড়িতে তখন পুজোর সময় দেখতাম যে বিজয়া দশমী র পর সবাই রা কেমন বড় দের প্রনাম করত। যদিও আমি জানি না কোন কারনে আমি কাউকেই প্রনাম করতাম না, কিন্তু খুব ভাল লাগত এই বাপ্যারটা। আমি জানিনা আর অন্ন কোন জাতিতে এই প্রথা প্রচলিত আছে।

এরপর যখন একটু বড় হলাম, মানে যখন আড্রিনালিন হরমোন Active হয়ে উঠল, তখন পুজো তে জানি না কেন বেশ প্রেম প্রেম ভাব জাগত আর নিজেকে খুব ভাল দেখতে লাগার বাপ্যার প্রখর হত। আমার মনে পড়ে, কোন এক বছর, টিভি তে কোন বিজ্ঞাপন বিশেষ কোন T-Shirt এর Design দেখে আবদার জুড়ে ছিলাম যে আমার ও সেই রকম T-Shirt চাই। ত, তখন এই জন্য পুজো দেখার পরিধি বাড়ত। তখন সঙ্গী হত নতুন কেনা বাইক।

সেই বাইক আজও আছে এবং আমার সঙ্গী যখন আমি  ছুটিতে বাড়ী যাই।

এরপর যখন প্রেম হল, তখন পুজোর আগে আমাদের কত পরিকল্পনা থাকত যে কিভাবে আমরা দেখা করব। গ্রামে বাড়ি হওয়ায় দেখা করার খুব সমস্যা ছিল কারন প্রেম বাপ্যার টা গোপন রাখার বাপ্যার ছিল। তাই পুজোর সময় হস্টেল থেকে যখন বাড়ি ফিরতাম, শুধু একটু দেখা করার জন্য কতবার ওর বাড়ির সামনে চক্কর কাটতাম।

এই ভাবে গ্রাডুয়েশন শেষ, টারপর ভোপাল। First Year এ পুজোর ছুটিতে বাড়ি এসেছিলাম এবং ষষ্টীর দিন বাড়ি ফিরে ছিলাম। ট্রেন পৌছেছিল সকালে, আর সেই সময় যখন বাসে করে বাড়ি ফিরছিলাম, সদ্য পাঠ ভাঙা শাড়ীতে সদ্য কিশোরীদের, যারা বোধহয় অঞ্জলি দিতে যাচ্ছিল, সত্তি বলছি, মনে হচ্ছিল অপ্সরা। এই বাংলা ছাড়া কোথায় এটা দেখা যায়।

 মুম্বাই এর পুজো এক বছর দেখেছি, মনেই হয়নি পুজো হচ্ছে। দশমী ছাড়া প্রত্যেক দিন অফিস। ভাবা যায়।

তাই এবার ও বাড়ি চললাম এবং আনেক প্লান আছে খুব মস্তি করার আর most imporatntly তোর সাথে অনেক অনেক সময় কাটানোর।

একটা অনুরোধ, যারা এখন ও  টিকিট book করাও নি, তাড়াতাড়ি করে নাও

সোজাসুজি প্রশ্ন করা যাক –

১। একটা লোক গত ২৫ বছর ধরে সিনেমা করছে – এবং এখোনো করে চলেছে আর চলবে – কে?

২। লোকটা ৩০০ টার কাছাকাছি সিনেমা করেছে এবং প্রায় ১০০ টা অভিনেত্রী র সাথে – কে?

৩। লোকটা বছরে প্রায় ৩৫-৪০ টা সিনেমা রিলীজ় করে – কে?

৪। লোক টা নিজে একটা ইন্ড্রাস্টি – কে?

আপনি তাকে দেখে নাক সিটকাতে পারেন, হাসতে পারেন, নকল করে মজা করতে পারেন, কিন্তু কোনোভাবে তাকে উপেক্ষা করতে পারবেন না। কারন তিনি নিজে একজন ইন্ড্রাস্টি। বাংলা সিনেমার যদি ইতিহাস লেখা হয়, তো কোনো সন্দেহ নেই, যে তিনি একটা অধ্যায়।

হ্যা – তিনি হলেন প্রসেনজিত চাট্যাজী। আমাদের বুম্বাদা আর গ্রা্ম বাংলার মানুষের কাছে “পসেনজিত”। উত্তম কুমার এর পর বাংলা সিনেমা র মহানায়ক।

সেই ছোট্ট জিঙ্গাসা দিয়ে শুরু, তারপর দুটি পাতা আর তারপর অমর সঙ্গী – আর কখোনো পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। আজও লোকে “চিরদিনি তুমি যে আমার” শোনে এবং ১০০ টার মধ্যে ২৫ জন caller tune রাখে এই গান টা।

আমার বুম্বাদা সাথে প্রথম পরিচয় বোধহয় “শত্রু” তে। সেই সাহসী পুলিস এর সাথে। তখন গ্রামের বাড়িতে থাকতাম, গ্রামে আমাদের বাড়িতে একমাত্র টিভি ছিল। প্রত্যেক রবিবার এ বিকেলে বাংলা সিনেমা হত এবং পুরো পাড়া জ়ড়ো হতো আমাদের বাড়ীতে। তো মনে পরে কিভাবে লোকেরা প্রসেনজিত এর সিনেমা থাকলে তাড়াতাড়ি সব কাজ শেষ করে বসে যেত। আজকের এর স্যাটেলাইট বিপ্লবে হয়ত হয়ত সেই জিনিস টা হারিয়ে গেছে কিন্তু বুম্বাদার জনপ্রিয়তা একই আছে।

এটা হয়ত বাড়াবাড়ি রকমের আলোচোনা যে উত্তম কুমার বড় না প্রসেনজিত, কিন্ত এক টানা ২৫ বছর ধরে যে ভাবে প্রসেনজিত শাসন করে চলেছেন – স্রম্ভম না করে থাকতে পারবেন না। প্রসেনজিত একই ভাবে দুই ধরনের সিনেমা – বানিজ্যিক এবং সমান্তরাল – সমান ভাবে কাজ করে চলেছেন আর করবেন।

untitled

আমরা তাকে দেখেছি একজন মিষ্টি প্রেমিক রূপে, দেখেছি এক সাথে ২০ টা গুণ্ডা কে ঠাণ্ডা করতে। আবার, গান করতে, নাচতে – ব্যর্থ প্রেমিক রূপে কাঁদতে, ভগবানে র -কাছে প্রার্থনা করতে, ভিলেন কে শেষ করার শপথ নিতে, অত্যাচারী জমিদার হিসাবে, সমাজ সেবক হিসাবে, ট্রেড ইউনিয়ন লীডার হিসাবে, অটো চালাক হিসাবে, ঘর জামাই হয়ে দজ্জাল শাশুড়ি কে শাসন করতে – প্রসেনজিত সাদা কালো সিনেমা এর সময় থেকে কেরিয়ার শূরু করে করে আজ় ও হীরো – আপনি যে কোনো চরিত্রের কল্পনা করুন, প্রসেনজিত সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

আমার প্রসেনজিত এ জিনিস টা ভালো লাগে টা তার Dedication , সিনেমা র প্রতি ভালবাসা এবং সত্যি কিছু করার ইছছে বাংলা সিনেমা র জন্য।

এটা ও ঠিক, অন্য রিজিওনাল সিনেমা বিশেষ করে সাউথে র হিরো রা যে সর্বভারতীয় ফ্রেম পেয়েছেন, প্রসেনজিত তা পাননি। এখন ও National Award পাননি। কিন্ত সেটা বোধহয় বড় কখা নয়। বড় কখা হোলো, একটা পুরো ইন্ড্রাস্টি তার কাঁধে – জীবনদ্দশায় এত বড় বাপ্যার আর কত জন এর সাথে ঘটে।

বুম্বাদা, আপনি দীর্ঘজীবী হউন।

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.